অনিয়ম-দূর্নীতিঅর্থনীতিজাতীয়

গেজেট ও ঈদ বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতিতে যাচ্ছে ময়মনসিংহের দর্জি শ্রমিকেরা

স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহে দর্জি সেক্টরে গেজেট বাস্তবায়ন,ঈদ বোনাস ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে আজ থেকে কর্মবিরতিতে যাচ্ছে দর্জি শ্রমিকরা। ২৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের মালগুদাম সংলগ্ন কড়ইতলি থেকে এ ঘোষণা দেন ময়মনসিংহ দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

 

ময়মনসিংহ দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতি মোখলেছুর রহমান দুলাল জানান,গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মালিকপক্ষের সাথে আলোচনায় বসা হয়। এর পূর্বে প্রায় সপ্তাহখানেক আগেই মালিকপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয় গেজেট বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু মালিকপক্ষের সাথে আলোচনায় বনিবানা না হওয়ায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাদ জুম্মা বসার কথা জানায় মালিকপক্ষ। সেখানে দর্জি মালিক সমিতির সভাপতি পারভেজ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আলোচনায় শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ প্যান্টের ক্ষেত্রে ১৮/- ও শার্টের ক্ষেত্রে ১২ টাকা বৃদ্ধির কথা জানায়। মালিকপক্ষ প্যান্টের ক্ষেত্রে ১০/- ও শার্টের ক্ষেত্রে ৮ টাকা বৃদ্ধির কথা বলে। এতে ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ না মানলে আবারো সময় দেয় মালিকপক্ষ। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার মালিকপক্ষ জানায় প্যান্টের ক্ষেত্রে ১৫/- ও শার্টের ক্ষেত্রে ১০ টাকা বৃদ্ধির। ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সেটি প্রত্যাখান করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের স্মরণাপন্ন হন। এরপর গত ২৫ ফেব্রয়ারি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে এক বৈঠকের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ জানান গত ২ বছর আগে যা ছিলো সেখান থেকে মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে মালিকপক্ষকে। কলকারখানা থেকে মালিকপক্ষ ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর পর্যন্ত সময় নিয়ে আসে। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত মালিকপক্ষ তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাতে গড়িমসি করে। বারবার কল দিলে মারিকপক্ষ ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর পর্যন্ত সময় নেয়। এর পূর্বে শ্রমিকরা জড়ো হয় মালগুদামে। দুপুরে জানায় মালিকপক্ষ গেজেট বাস্তবায়ন দূরের কথা মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আর কোন ভূমিকা রাখতে পারবে না। এর ফলশ্রুতিতে কর্মবিরতির এ আহবান।”

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক বাবলী আকন্দ জানান, “দর্জি সেক্টরে ২০২৪ সালে প্রকাশিত দর্জি সেক্টরের জন্য সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেটে বিভিন্ন আইটেমের পিসরেট (ফূরণভিত্তিক মজুরি) নির্ধারণসহ মাসিক ভিত্তিতেও নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হলেও অদ্যাবধি মালিকপক্ষ তা বাস্তবায়ন করে নি। গেজেট বাস্তবায়নের জন্য ময়মনসিংহ দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মালিক সমিতিকে বিভিন্ন সময় পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। অথচ সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি কার্যকর করা না হলে শ্রম আইনের বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ ও শ্রম বিধিমালা-২০১৫ (অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ধারা-২৮৯ এর উপধারা (১) ও (২) অনুযায়ী জরিমানা প্রদানসহ ১ বছরের কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজারে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দর্জি কারিগরদের যে রেট প্রদান করা হচ্ছে তা দিয়ে তাদের পরিবারগুলো খুব কষ্টে দিন কাটায়। ঈদ উৎসব তারা পালন করতে পারে না। অথচ মালিকপক্ষ ঈদ বোনাসসহ রেট বৃদ্ধি করতে গড়িমসি করছে। অবিলম্বে মালিকদের গেজেট বাস্তবায়নের আহবান জানাই।”

 

দর্জি শ্রমিকদের বর্তমানে যে রেট প্রদান করা হয় তার পূর্বেই ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রেট রাখা হয়। অথচ দর্জি শ্রমিকেরা সেখান থেকে পায় সামান্য। শ্রম আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না বললেই চলে এ সেক্টরে।

কারিগরদের কাছ থেকে জানা যায়, এখন পর্যন্ত নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র পায় নি তারা। রমজানে রাত জেগে শ্রমিকেরা কাজ করলে নাইট বিল পাওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ কারখানাগুলোতে নাইট বিল দেয়া হয় না। নানা অনিয়ম আর শ্রম আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে দর্জি কারখানাগুলো। এ বিষয়ে নজরদারি এবং আইন বাস্তবায়নে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান নেতৃবৃন্দের।