একুশের ছায়ায়
একুশের ছায়ায়
নিহারিকা গুপ্তা
রফিকুল নামে একটা ছেলে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ত। বাবা রিকশা চালাতেন, মা মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। পাড়ার কেউ তাকে বিশেষ চিনত না।
তার একটা পুরনো খাতা ছিল। সেখানে বাংলায় মনের কথা লিখত।
২০ ফেব্রুয়ারি রাতে বন্ধু করিম জিজ্ঞেস করল, “রফু, কাল যাবি?”
রফিকুল চুপ করে রইল একটু। তারপর বলল, “আমার মা বাংলায় কথা বলেন। সেই ভাষা কেড়ে নিলে মাকেই তো কেড়ে নেওয়া হয়।”
পরদিন সকালে মায়ের রেখে যাওয়া ভাত না খেয়ে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার আগে শুধু খাতার শেষ পাতায় লিখল —
“মা, ভাষাটা থাকলে তুমি থাকবে।”
গুলির শব্দের পরে করিম পেছনে ফিরে দেখল — রফু নেই।
শহীদ মিনারে তার নাম নেই। কবর কোথায় কেউ জানে না।

