কল্যাণ বোর্ডকে আয়বর্ধক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে – কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব) তাসলিমা কানিজ নাহিদা বলেছেন, কল্যাণ বোর্ডকে একটি আয়বর্ধক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ এবং বোর্ডের প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আমরা ইতোমধ্যে কল্যাণ কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে সক্রিয় করেছি এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য সব বিভাগে আঞ্চলিক কর্মচারী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয় কতৃক আয়োজিত বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের সেবা কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, অনেক কর্মচারীই এখনো কল্যাণ বোর্ড কী ধরনের কাজ করে তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত নন। আমিও দায়িত্ব নেওয়ার আগে এ বিষয়ে পূর্ণ ধারণা পাইনি। একজন কর্মচারী চাকরিতে যোগদানের পর প্রথম বেতন থেকেই কল্যাণ ও যৌথ বিমার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হয়; কিন্তু সেই অর্থ কোথায় যায় বা কীভাবে ব্যবহৃত হয়, তা অনেকেরই অজানা। অথচ এই অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্যই কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা কর্মচারীর অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করে থাকে।
তিনি বলেন, কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। কর্মচারীদের আন্তরিকতা, দক্ষতা ও কর্মপ্রেরণা বাড়াতে কল্যাণমূলক সেবা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশে থাকা এবং বোর্ডের সকল সুবিধা সহজীকরণের জন্য যে উদ্যোগগুলো চলছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও আঞ্চলিক কল্যাণ কমিটির সভাপতি ফারাহ শাম্মী, এনডিসি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের আর্থসামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে নানামুখী সেবা প্রদান করে থাকে। এই সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা অনুদান, শিক্ষা বৃত্তি, ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে স্টাফ বাস পরিচালনা, কর্মচারীদের অফিসে যাতায়াতের সুবিধার্থে স্বল্প ভাড়ায় পরিবহন সেবা, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, ঘরে বসেই কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির সুবিধা, দাফন কল্যাণ ভাতা প্রদান, চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে পরিবারকে আর্থিক সহায়তাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড সত্যিকার অর্থেই মানুষের সেবা ও কল্যাণে নিয়োজিত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এই বোর্ডের কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হোক এই শুভকামনা তিনি জানান।
সভায় প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তার, ময়মনসিংহ জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এর মহাপরিচালক ফরিদ আহ্মদ, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (উপসচিব) ড. মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিভাগীয় বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী প্রতিনিধি, আঞ্চলিক কল্যাণ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পিআইডি,ময়মনসিংহ।

