অনিয়ম-দূর্নীতিঅন্যান্যজাতীয়রাজনীতি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বাঁধের গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সকল পদ স্থগিত করলো কেন্দ্রীয় বিএনপি

 কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ ধাপে ধাপে কেটে ফেলার অভিযোগে মিঠামইন বিএনপির  সভাপতি  জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর এর বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে  কিশোরগঞ্জ জেলাধীন মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর এর বিরুদ্ধে কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে বেড়িবাঁধে রোপণকৃত প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ ব্যক্তিগত স্বার্থে কেটে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি নিজ গাড়ী নিয়ে তার বাড়ী যাওয়ার পথ সুগম করার লক্ষ্যে এধরণের অন্যায় ও নিন্দনীয় কাজটি করেছেন-যা দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং এধরণের গর্হিত কাজের জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলাধীন মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর এর বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি, তার বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া বেরিবাঁধের ওপর লাগানো গাছগুলো কেটে ফেলে। নদীভাঙন ঠেকাতে ওই বেরিবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেয়া হয় । দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো এলাকাবাসীর কাছে ভাঙনরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বাঁধের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু করেন। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০থেকে ২৫ হাজার টাকা। বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে গাছের গুঁড়ি কেটে ফেলা হয় এবং পরে সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, আমি কাটবো কেন? আমার দরকার আছে কাটার? জায়গা ও গাছ গুলো সরকারি না। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়ে গেছে। বেড়িবাধ সরকারি না অধিগ্রহণকৃতও না।
মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় বলেন, বেড়িবাঁধে কেটে ফেলা গাছ গুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় খোয়াব নামে একটি এনজিও সংস্থা রোপন করেছিল। বিষয়টি উপকারভোগী স্থানীয় দুঃস্থ নারী ও এলজিইডি দেখাশোনা করছে। এইটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। সে সময় গাছ গুলো রোপন করা হয়। গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানার পর স’মিলে গিয়ে গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা করা হয়েছে ।