ডহুরী দিবস ও শহীদ গোবিন্দ দত্তের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
ঐতিহাসিক ডহুরী দিবস ও শহীদ গোবিন্দ দত্তের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কৃষক সংগ্রাম সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ২২ জুলাই ২০২৫ মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় কেশবপুরের পাঁজিয়া বাজারে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি হাফিজুর রহমান। স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হক লিকু, নড়াইল জেলা সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির, যশোর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সমীরণ বিশ্বাস, জাতীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি দিলিপ বিশ্বাস, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের খুলনা জেলা আবুল হোসেন, যশোর জেলা সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস, অন্যতম নেতা আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যশোর জেলার সহ-সভাপতি এ্যাড: আহাদ আলী লস্কর, কৃষক সংগ্রাম সমিতি সদর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ বিশ্বাস, মনিরামপুর থানা কমিটির সভাপতি পরিতোষ দেবনাথ,অভয়নগর থানা সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম, কেশবপুর থানা সভাপতি রুহুল কুদ্দুস, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানা সভাতি সরদার ইসহাক আলী প্রমুখ। পরিচালনা করেন খুলনা জেলার সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুকৃতি বিশ্বাস।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী চলতি বছর তিনটি যৌথ মহড়া এবং একটি নতুন দক্ষতা সংযোজনের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে যা বাংলাদেশকে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে জড়িত করার চক্রান্ত। বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থল সংযোগ সেতু এবং প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় দেশ হওয়ায় এদেশকে নিয়ে ভূরাজনৈতিক ও রণনীতিগত সামগ্রিক গুরুত্ব হিসাবে সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে বিবেচিত হচ্ছে। তারই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের সাথে প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়ার প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্ব›িদ্বতা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েই চলেছে। এই মহড়া মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইন্দো-প্যাসিপিক রণনীতির সাথে যুক্ত করা, বাংলাদেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষকে সামনে নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, এসব জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী তৎপরতা অগ্রসর করে চলেছে সাম্রাজ্যবাদের দালাল ড. ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তিকালীন সরকার। স্মরণসভা থেকে জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী এই তৎপরতার বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহŸান জানানো হয়।
ঐতিহাসিক ডহুরী দিবস ও শহীদ গোবিন্দ দত্তের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষে অবাধ জোঁয়ার-ভাটার বিকল্প কোনো পথ নেই। এ প্রেক্ষিতে ভবদহ রেগুলেটরসহ নদীর ওপরে নির্মিত সকল অপরিকল্পিত অবকাঠামো উচ্ছেদ, ওয়াপদা বাঁধ উচ্ছেদ করে জলাবদ্ধ বিলগুলিতে অবাধ জোঁয়ার-ভাটা সৃষ্টি করতে হবে। নদীর জমি নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। নদ-নদী পরিকল্পিত উপায়ে খনন করতে হবে এবং খননকৃত পলি বিলের নিম্নাংশে ফেলতে হবে। পদ্মা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা ব্যারেজ উৎচ্ছদেসহ আন্তর্জাতিক নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে (আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে) সরকারকে যথাযথ ভূমিকা নিতে হবে। পদ্মা নদীর সাথে মাথাভাঙ্গা, মাথাভাঙ্গা নদীর সাথে ভৈরবসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীর সংযোগ পুনঃস্থাপন ও নদীসমূহের আন্তঃসংযোগ চালু করতে পরিকল্পিতভাবে নদ-নদী খনন ও সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। পানি প্রবাহের বাধা অপসারণ ও অপরিকল্পিত ও অবৈধ মাছের ঘের উচ্ছেদ করতে হবে। সাথে সাথে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক মহোদয়কে ধানের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি, ওজনে কারচুপি রোধের সাথে সাথে যথাযথ ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান। আজ সকাল ৯ টায় শহীদের সমাধি কেশবপুরের নারায়ণপুরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন, নিরবতা পালন, শপথ পাঠ করা হয়।
সভার শুরুতে শহীদ গোবিন্দ দত্ত ও গতকাল ঢাকায় প্রশিক্ষণ বিমান দূর্ঘটনায় পাইলটসহ নিহত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি