সুইসাইডে স্ত্রীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মানসিক ভারসাম্যহীন ইমরান ১০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা
আলএমরান, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ১২ নংআছিম পাটুলী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এক হৃদয়বিদারক মানবিক ঘটনার সাক্ষী সমাজের প্রতিবেশীরা। প্রায় এক দশক ধরে শিকলে বাঁধা অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মো. ইমরান হোসেন (৩৫), তিনি মৃত জালাল উদ্দিনের পুএ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় ইমরান ছিলেন সুস্থ-স্বাভাবিক ও পরিশ্রমী একজন যুবক। আছিম বাজারে একটি ছোট হোটেল ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। স্বপ্ন ছিল সুখী সংসার গড়ার। প্রায় দশ বছর আগে পাশের গ্রামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। স্ত্রীর এই মর্মান্তিক মৃত্যু ইমরানের জীবনে এক ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। প্রিয় মানুষকে হারানোর শোকে তিনি সহ্য করতে না পেরে ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং তার আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
৭৯ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“গত বছর ঈদের দিন আমার ছেলে নিজে নিজে গোসল করেছিল। আর এ বছর ঈদ চলে আসছে, তাকে গোসল করাতেও পারি না, কাছে যেতেও ভয় পাই। বউ মারা যাওয়ার পর থেকেই আমার ছেলে আর আগের মতো নেই।”দারিদ্র্যতা এই পরিবারটির নিত্যসঙ্গী। ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই বৃদ্ধা মায়ের। গত বছর মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে কিছু অর্থ সংগ্রহ করে চিকিৎসা শুরু করলেও টাকার অভাবে তা বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারেননি। ফলে ইমরানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা দিন দিন আরও অবনতি হতে থাকে। দিনে দিনে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিজের এবং আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ছেলেকে শিকলে বেঁধে রাখতে বাধ্য হন তিনি।
বৃদ্ধা মা বলেন, “অল্পতেই ওর খুব রাগ উঠে যায়, তখন কাউকে চিনতে পারে না, মারধর শুরু করে। বাধ্য হয়েই শিকল পরিয়ে রাখি। এটা করতে আমার বুক ফেটে যায়, কিন্তু এছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম ফারুক জানান, ইমরানকে বিভিন্ন কবিরাজ ও চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল। কিছুদিন চিকিৎসা চললেও অর্থাভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “যথাযথ চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পেলে ইমরান আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে বলে আমরা মনে করছি। এজন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউছুব মহুরী বলেন,“সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে এই অসহায় মা-ছেলের জীবনে নতুন আশার আলো ফিরে আসতে পারে।

