স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবি রুমার;মেনে নিতে ছেলের পরিবারের অস্বীকৃতি
নান্দাইল(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ-ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের দক্ষিন খয়রাটি গ্রামে কুয়েত প্রবাসি এক নারী স্ত্রীর দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। তবে স্বামী বেচারা বাড়িতে নেই তিনি বর্তমানে কুয়েতে অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে ৩০ নভেম্বর রবিবার গ্রাম পুলিশসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
ওই নারী জানান তিনি নরসিংদী সদরের চিনিসপুর ইউনিয়নের দাসপাড়া ঘোড়াদিয়া গ্রামের রুমা আক্তার(৩৬)। তাঁর বাড়িতে বিয়ে হয় এবং তিনি বর্তমানে দুই সন্তানের মা। গত প্রায় দুইবছর আগে তিনি কুয়েতে গিয়ে একটি হাসপাতালের সেবিকা হিসাবে কাজ শুরু করেন। সেখানে কাজ করা অবস্থায় তার সাথে পরিচয় হয় তার গ্রামের বাড়ি নান্দাইলের রাজগাতি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের ছেলে নুর নবীর(৩০)সাথে। নূর নবীর সাথে তার মন দেওয়া নেওয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাকে (নূর নবীকে) বিয়ে করার জন্য দেশে থাকা স্বামীকে তালাক দেন।
এরপর গত প্রায় এক বছর আগে নুর নবীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ভালোভাবেই চলছিলেন। পরে স্বামীর বাড়িতে ঘটনা জানাজানি হলে বেঁকে বসেন স্বামীর পরিবার। কোনো মতেই এই বিয়ে মানতে নারাজ। এই খবর পেয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে একে অপরকে ছেড়ে ভিন্ন জায়গায় বসবাস করা অবস্থাতেই স্ত্রী রুমা গত ২২ নভেম্বর দেশে এসে গত ২৭ নভেম্বর মাকে সাথে নিয়ে নান্দাইলের দক্ষিন খয়রাটি গ্রামে এসে স্বামীর বাড়ি খোঁজ করে সন্ধান পান। ওই সময় তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্যের দ্বারস্থ হয়ে ২৯ নভেম্বর শনিবার স্বামীর বাড়িতে গেলে সেখানে স্বামীর পরিবারের লোকজনের তাড়া খেয়ে মেম্বারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে এলাকার লোকজনের সহায়তায় ৩০ নভেম্বর রবিবার ফের তিনি স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতিতে অবস্থান নেন।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান,অসহায় ওই নারী বিস্তারিত বলা ছাড়াও বিয়ের সকল কাগজপত্র দেখালে তিনি সাবেক মেম্বার হাবিবর রহমানের(নারীর শশুড়) বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু তখন বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন আজ রবিবার ফের ওই নারী ওই বাড়িতে অবস্থান নেয়।
নারীর শ্বশুর সাবেক মেম্বার হাবিবুর রহমান জানান,তাঁর ছেলে যদি বিয়ে করে থাকে তাহলে এটা একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার। এখন তো ছেলে বাড়িতে নেই। তাছাড়া ছেলের আলাদা কোনো কিছু নেই। এ অবস্থায় ওই নারীর দাবি অযৌক্তিক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল মডেল থানার ওসি তদন্ত মুজাহিদুল ইসলাম জানান,ওই নারীকে পরিবারসহ থানায় আসার জন্য বলা হয়েছে। আসলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

