অন্যান্যজাতীয়রাজনীতি

ময়মনসিংহে প্রশাসনের বাধার মুখে কৃষক সংগ্রাম সমিতির সম্মেলন, ভিন্নস্থানে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন

গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির ময়মনসিংহ জেলা সম্মেলনে বাধা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সম্মেলনের নির্ধারিত স্থান চর ঈশ্বরদীয়া গুচ্ছগ্রামে সম্মেলনের মঞ্চ তৈরির সময় কোতোয়ালি থানা পুলিশ মঞ্চ তৈরিতে বাধা দেয়। এ বিষয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দফায় দফায় আলোচনার পরও নির্ধারিত স্থানে সম্মেলন করতে পারে নি কৃষক সংগ্রাম সমিতি। পরে পাওয়ার স্টেশন সংলগ্ন পাওয়ার স্টেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যালয়ে কর্মি সম্মেলন ও র‍্যালীর মধ্য দিয়ে জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। কামরুজ্জামান সাজকে সভাপতি খোকন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক এবং ইসমাইল হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি গঠন করা হয়।

নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান সাজ এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন মিয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে জানান, জেলা সম্মেলনের প্রেক্খিতে প্রায় মাস খানেক ধরে সদরের বিভিন্ন জায়গায় পথসভা, হাটসভাসহ প্রচার কার্যক্রম চলতে থাকে। সম্মেলনের প্রেক্ক্ষইতে প্ররশাসনকে চিঠি দিয়ে পূর্বে অবগত করা হয়। তারপরও পরিকল্পিতভাবে সম্মেলনে কোন প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী হামলা করতে পারে এমন আশংকার কথা উল্লেেখ করে প্রশাসন সম্মেলন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় নি। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন – সম্মেলনের আগের দিন থেকে স্থানীয় বিএনপি’র কিছু নেতৃবৃন্দ সম্মেলনের স্থানীয় আয়োজকদের উপর বিভিন্নরকম চাপ সৃষ্টি করে।  জামায়াতের স্থানীয়  নেতৃত্বও সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে থানায় আপত্তি জানিয়েছে বলে থানা মারফত জানা যায়। এছাড়া পুলিশের উপস্থিতিতে সকালে সম্মেলন প্রাঙ্গণে কয়েকজন তরুণ এসে সম্মেলনের লিফলেটে বন্দর বিরোধীতা এবং ড. ইউনুসকে সাম্রাজ্যবাদের দালাল বলা হচ্ছে কেন- এ বিষয়ে মব সৃষ্টি করতে চায়।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, বোরো মৌসুমকে কেন্দ্র করে সার-বীজ-কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজ লভ্য করার প্রেক্ষিতে কৃষক সংগ্রাম সমিতি সংগঠন সংগ্রাম গড়ে তুলছে। সে কারণে কৃষক জনগণ সংগঠন-সংগ্রামে অগ্রসর হচ্ছে। এ ছাড়া বন্দর ইস্যুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। বিদেশী শক্তির হাতে বন্দর ও করিডর তুলে দেয়ার মাধ্যমে দেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে কৃষক জনগণ চুপ থাকতে পারে না। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক শক্তি কৃষক-জনগণের অধিকার আদায়ে বাধা সৃষ্টিসহ জাতীয় ও জনগণের স্বার্থে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনেও বাধা সৃষ্টি করছে। জনগণের আন্দোলন ঠেকাতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। নেতৃদ্বয় এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে সচেতন থেকে কৃষক জনগণের সংগঠন সংগ্রাম নিরবিচ্ছিন্নভাবে অগ্রসর করার আহবান জানান।