জাতীয়

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিক্ষোভ;ময়মনসিংহে ডিসি বিরোধী স্লোগান

শহর প্রতিনিধি: শিশু বলাৎকারের অভিযোগে বহিষ্কৃত শিক্ষককে পুনরায় নিয়োগ ও দুজন সিনিয়র শিক্ষককে অব্যাহতির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ময়মনসিংহে শনিবার বিক্ষোভ করেছেন জামিয়া ফয়জুর রহমান (রহ.) বড় মসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীবৃন্দ। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় ‘হই হই রই রই,ডিসি তুই গেলি কই,ওসি না ডিসি?ডিসি তুই এখন আসবি,তাদের মুখে ডিসি বিরোধী স্লোগান দিতে শোনা যায়। এ সময় ময়মনসিংহের ডিসিকে পদত্যাগ করার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। তাদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসক ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মুফিদুল আলম একতরফাভাবে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা জানান, শিশু বলাৎকারের অভিযোগে বহিষ্কৃত মাওলানা আজিজুল হককে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মাদ্রাসায় পুনর্বহাল করা হয়েছে। পাশাপাশি সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি মোফাজ্জল হোসাইন, নায়েবে মুহতামিম মুফতি সারওয়ার হোসাইন ও খতিব মাওলানা আব্দুল হককে অব্যাহতির প্রক্রিয়া চলছে, যা মাদ্রাসায় তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে।

শিক্ষার্থীরা  আরো জানান, একটি মহল বহিষ্কৃত শিক্ষক আজিজুল হকের পক্ষ নিয়ে আমাদের বড় হুজুরের (অধ্যক্ষ আব্দুল হক) বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুলে মূল ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসক শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিষয়কে কেন্দ্র করে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

তারা এসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন, একাধিক ঘৃন্য অপরাধে অভিযুক্ত ও ইতিপূর্বে অব্যাহতিপ্রাপ্ত মাওলানা আজিজুল হক (বোররচর)কে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে লিখিত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে, গত ২৩ জুলাই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে সভাপতি সাহেবের নিজ কার্যালয়ে বেয়াদবিমূলক আচরণের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে,কমিটি কর্তৃক শিক্ষকদের বেআইনি বহিষ্কারের পাঁয়তারা বন্ধ করে সকল প্রকার ষড়যন্ত্র থেকে সরে আসতে হবে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সকল দাবি কার্যকর করে লিখিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে। এ সকল দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলন করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীবৃন্দ।