জাতীয়রাজনীতি

মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও সহনশীলতা জাগ্রত না হলে মানবিক রাষ্ট্র গড়া সম্ভব না -প্রিন্স  

মোঃ বাবুল হোসেন:  বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, যতই সংস্কার বা পুনর্গঠন হউক না কেন , মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও সহনশীলতা জাগ্রত না হলে মানবিক রাষ্ট্র বা সমাজ গড়া সম্ভব না ।
তিনি ১১ জুলাই সকালে  ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে “ আলোকিত হলুয়াঘাট ঃ রুপকল্প “ র্শীষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন । হালুয়াঘাট পৌর শহরের অগ্রযাত্রা কনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল বৈঠকে  হলুয়াঘাটের গণ্যমান্য এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যোগ দিয়ে হালুয়াঘাটের সার্বিক উন্নয়নে রুপকল্প ও অভিকল্প প্রণয়ণ ও বাস্তবায়নে তাদের অভিমত তুলে ধরেন ।
বৈঠকে এমরান সালেহ প্রিন্স গতকাল ঢাকায় মিডফোর্ট হাসপাতালের সামনে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন এই নৃশংসতা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না । তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মানুষের মধ্যে মনুষত্ব্যবোধ না থাকে সে মানুষ নামের অমানুষ । তিনি বলেন , অমরা যতই উন্নয়ণের কথা বলি না কেনো , একটা মানূষের মধ্যে মানবিকতা , মনুষত্ব্যবোধ , ভাতৃত্ববোধ ও মমত্ববোধ না থাকলে সেই উন্নয়ন
শুধু কথামালা বা অবকাঠামোর মধ্যে থেকে যাবে ।আলোকিত রাস্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে মানুষকে মানুষ হিসেবেই গড়ে তুলতে হবে ।
তিনি বলেন ব্যক্তির দায় দল নেবে না ।দল সেই দায় নিতে পরে , যা দল নির্দেশ দেয়। সন্ত্রাস , চাঁদাবাজি, দখলবাজি বিএনপির ডিকশেনারিতে নাই । এসব অনৈতিক কাজ বিএনপি প্রশ্রয় দেয় না , নিশ্চয়ই গত কয়েক মাসে তা প্রমানিত হয়েছে । বিএনপি যদি আওয়ামি লীগের মতো অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দিত তাহলে বিএনপিকে দোষ দেয়া যুক্তিসঙ্গত ছিলো । বিএনপি তা করছে না । এর পরেও যারা এসব বিষয়ে বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় , তাদের উদ্দেশ্যই ভিন্ন । তিনি বলেন , দুর্ভাগ্যজনক কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে দুই একটি দল ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ফয়দা নিতে তৎপর । যাতে নির্বাচন বিলম্বিত হয় ।অসত্য কিছু দিয়ে রাজনৈতিক ফয়দা হাসিল করা যায় না । জনগণের ভেতর বিএনপির শেকড় । যারা ভবেন টোকা দিলে বিএনপি পড়ে যাবে , তারা বকার স্বর্গে বাস করছেন । গতকাল পুরাতন ঢাকায় সংগঠিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নাই । আমি ভিডিওতে দেখে স্তম্ভিত, লজ্জিত । যারা এই জঘণ্য কাজ করেছে তারা কোনো দলের হতে পরে না । যিনি নিহত হয়েছেন , তিনিও যুব দলের কর্মী । যিনি হত্যাকারী তিনিও যুব দলের কর্মী  ।যুব দলের হোক বা না হোক , তিনি বাংলাদেশের একজন নাগরিক । স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি সবারই থাকতে হবে । দোষী যেই হোক তার কঠোর শাস্তি হতে হবে । এক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরও দায় আছে বলে মনে করি । এ পর্যন্ত অনৈতিক কাজের জন্য বিএনপি যাদেরকে বহিস্কার করেছে । তাদের কতজনকে আটক করা হয়েছে ? বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিজেরা উদ্যোগী হয়ে সন্ত্রাসী দমনে কী কাজ করেছে , যাতে এসব দুষ্কৃতীকারীরা ভয় বা আতঙ্কে থাকবে ?
অমরা গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এভাবে দেখতে চাই নাই । শক্তিশালী পুলিশিং ব্যবস্থা শান্তিপূর্ণ সমাজের জন্য একান্ত অপরিহার্য । সন্ত্রাসীরা যদি ভয় না পায় , আতঙ্কে না থাকে , তবে সন্ত্রাসী কাজের বিস্তার ঘটবে । এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আমি মেনে নিতে পারছি না । বিষয়টিকে রাজনৈতিক কালার না দিয়ে সন্ত্রাস হিসেবেই দেখা উচিৎ । এসবের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে ।
মানবিকতা সবার মধ্যে জাগ্রত হতে হবে ।
গোলটেবিল বৈঠকে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল , পৌর বিএনপির আহবায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ , বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী , বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল ঘাগড়া , বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু বিশেশ্বর চৌহান,  হালুয়াঘাট  সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি মজিবর রহমান ,কয়লা আমদানি ও রফতানীকারক গ্রুপের মহাসচিব অশোক কুমার অপু , হাসলুয়াঘাট বিআরডিবির চেয়ারম্যন আবু হাসনাত বদরুল কবীর , বিআরডিবির সাবেক  চেয়ারম্যন শাহ আফাজ উদ্দিন ,  উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ , পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন , ময়মনসিংহ জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ , করাইতলী -গোবড়াকুড়া আমদানি রফতানি উন্নয়ণ সমবায় সমিতির সভাপতি রমজান আলী জহির ,
হালুয়াঘাট সরকারী শহীদ স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার ধর , হালুয়াঘাট ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক ইমাম উদ্দিন , যুব ব্যবসায়ী সমতির সভাপতি তাজিকুল ইসলাম ,হালুয়াঘাট ডিএস মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল হাই , সূর্যপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মওলানা  আকবর আলী ,হালুয়াঘাট সরকারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর সরকার , আমতৈল  ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান , হালুয়াঘাট ট্রাইবাল এসোসিয়েশন এর চেয়ারম্যান সুব্রত রেমা , সাংগঠনিক সম্পাদক লিভিং স্টোন চাম্বুগং ,হালুয়াঘাট পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা ,সাবেক ব্যাংকার সমেন্দ্র চন্দ্র সরকার , হালুয়াঘাট সানফ্লাওয়ার মডেল  স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাংগীর আলম , সাবেক চেয়ারম্যন আবদুল হাই, মোনায়েম হোসেন খান, স্বরলিপি  সংগীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মিত্র বর্ধন পাল , হালুয়াঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রজ্জাক , সাংবাদিক হাতেম আলী , দেওয়ান নঈম , বাবুল হোসেন , ওমর ফারুক সুমন ,
ধারা বিশ্বিদ্যালয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক এমদাদুল ইসলাম, মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান , কয়লা ও পরিবহণ ব্যবসায়ী শামসুল আলম শামস , ব্যবসায়ী উত্তম কুমার সরকার ,  ঝলঝলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম  , সেন্ট এন্ড্রুজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান ,
স্বদেশী পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি হারান ভট্টাচার্য, দলিল লেখক সুলতান মহিউদ্দিন , ব্যবসায়ী ইসহাক মাস্টার বক্তব্য রাখেন ।