অর্থনীতি

দুর্গা পূজায় উৎসব বোনাস ও ছুটি প্রদানের দাবিতে হোটেল শ্রমিকদের স্মারকলিপি প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার:    হিন্দুদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজায় উৎসব বোনাস ও ছুটি প্রদানের দাবিতে মঙ্গলবার বেলা ১২ঃঘটিকার সময় রেজিষ্ট্রার্ড ট্রেড ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিস্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৮৮৩-এর থেকে জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় ।স্মারকলিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন:-সংগঠনের সভাপতি লিলু মিয়া,সাধারন সম্পাদক পিন্টুদাস, সাংগঠনিক সম্পাদক সুরঞ্জিত সেন দাস, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমূখ ।
স্মারকলিপিতে ইল্লেখ করা হয়, রেজিষ্ট্রার্ড ট্রেড ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিস্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৮৮৩-এর থেকে আপনাকে জানাচ্ছি অভিনন্দন। হিন্দুদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা আসন্ন। এই ধর্মীয় উৎসব স্ব স্ব ধর্মাবলম্বী সকল শ্রেণী পেশার জনগণের নিকট আনন্দের বার্তা নিয়ে আসলেও হোটেল শ্রমিকদের সব সময় এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়। কারণ দুর্গা পুজায় হিন্দু হোটেল-রেস্টুরেন্ট মিস্টি বেকারি শ্রমিকরা কোন উৎসব বোনাস পান না, এমন কি অধিকাংশ হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের পুজায় কোন ছুটিও প্রদান করা হয় না, বরং দুর্গা পূজায় অধিকাংশ হোটেল-রেস্টুরেন্ট মিস্টি কারিগর শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। আর যে সকল শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয় তাদের ছুটির দিনের মজুরিও দেওয়া হয় না।
এছাড়া বাংলাদেশ শ্রমআইন২০০৬(অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ধারা ২(২ক) এবং বাংলাদেশ শ্রমবিধিমালা-২০১৫ এর বিধি ১১১(৫) অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে উৎসব বোনাস ও ছুটি প্রদান করা আইনত বাধ্যতামূলক। অথচ হোটেল মালিকরা সরকারী আইন লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে এই সকল কর্মকান্ড চালালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে নির্বিকার। শুধু আইনগতভাবে নয় ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের দিক থেকেও হোটেল রেস্টুরেন্ট মিস্টি বেকারী শ্রমিকদের উৎসব বোনাস ন্যায্য অধিকার। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ শ্রম আইন-এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ২(১০) ধারায় প্রতিবছর চাকুরীর জন্য ৪৫ দিনের গ্রাচুইটি, ২৬(ক) ধারায় চাকুরীচ্যূতি জনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদান, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থ্যতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১১ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও আমাদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
অথচ হোটেল মালিকরা সরকারী আইন ও চুক্তি লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে এই সকল কর্মকান্ড চালালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে নির্বিকার। শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও আমরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য হই। আমরা দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হই। এমতবস্থায় হোটেল শ্রমিকদের আসন্ন শারদীয় দুর্গা পুজায় মাসিক বেতনের সমপরিমান উৎসব বোনাস প্রদানের প্রেক্ষিতে আপনার ভুমিকা একান্ত কাম্য।
স্মারকলিপির অনুলিপি  সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হয় –  সচিব- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়,  বিভাগীয় কমিশনার- সিলেট বিভাগ,   মহাপরিচালক- শ্রমদপ্তর , মহাপরিদর্শক- কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর,  পুলিশ সুপার- সুনামগঞ্জ ,উপপরিচালক- আঞ্চলিক শ্রমদপ্তর- সিলেট,  উপমহাপরিদর্শক- কলকারখান প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, সিলেট, সভাপতি, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি, চেম্বার ভবন সুনামগঞ্জ , সভাপতি/সম্পাদক-সুনামগঞ্জ হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতি এবং সভাপতি  /সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রেজি: নং বি: ২০৩৭, গুলিস্তান, ঢাকা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *