অনিয়ম-দূর্নীতিঅন্যান্যঅর্থনীতিকৃষি ও শিল্পজাতীয়

ফুলবাড়িয়ায় বিএডিসি’র ব্রি ধান-৯২ বীজ  কিনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাথায় হাত

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সরবরাহকৃত ব্রি ধান-৯২ বীজ বিএডিসি’র ডিলার কিনে ব্যবহার করে চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষকের এখন মাথায় হাত। বীজে মিশ্রণ ও মানহীনতার অভিযোগ তুলে তারা দ্রুত তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলার নাওগাঁ, পুটিজানা ও রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একই জমিতে ধানের গাছ ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। কোথাও ধান পেকে গেছে, কোথাও শীষ বের হওয়ার পর্যায়ে, আবার কোথাও এখনও থোড় অবস্থায় রয়েছে। ফলে একসঙ্গে ধান কাটতে না পারায় কৃষকরা যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনি ফলন নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বড়বিলা বিলপাড় এলাকার কৃষক ঈমান আলী বলেন, বিএডিসির বীজের ওপর ভরসা করে চাষ করেছিলাম। কিন্তু এখন একই জমিতে তিন ধরনের ধান দেখা যাচ্ছে। কোনটা আগে কাটব, তা বুঝতে পারছি না।
একই এলাকার কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, ঋণ করে বীজ, সার ও কীটনাশক কিনেছি। ফলন না হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, বীজে মিশ্রণ না থাকলে একই জমিতে এ ধরনের বৈচিত্র্য হওয়ার কথা নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান বীজ হওয়ায় তারা আস্থা রেখেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে সেই আস্থা নষ্ট হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হলে ভবিষ্যতে সরকারি বীজের প্রতি কৃষকদের আস্থা কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরুমোহাম্মদ এর সংগে কথা বললে তিনি  আমি এবিষয়ে  বি এ ডি সি কে অবহিত করেছি। তারা তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্হা নিবেন বলে আশস্হ করেছেন
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।