ঈদ বোনাসের দাবিতে সিলেটে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের বিক্ষোভ-সমাবেশ
সিলেট প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল ফিতরে ২৫ রমজানের ভিতরে সকল প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ পূর্ণ বোনাসের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ। দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সিলেটে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ১০ ঘটিকার সময় সুরমা পয়েন্টে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জিন্দাবাজার প্রদক্ষিণ করে।
সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ শাহপরান থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল মিয়া, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির আহবায়ক শুভ আজাদ (শান্ত), সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির সভাপতি মনির হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি মীর মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান আলী, বাবনা আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন সিলেট সদর উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মিলন মিয়া, স- সভাপতি লুৎফুর রহমান, মীরেরচক শ্রমজীবী সংঘের আহবায়ক আলী আহমদ, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের অন্যতম নেতা শাহীন মিয়া।
বক্তারা বলেন দেশের অধিকাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের প্রতি বছর ঈদ আসলে বেতন বোনাসের জন্য সভা সমাবেশ মিছিল মিটিং করতে হয়। উৎসব বোনাস শ্রমিকদের আইনি অধিকার। অথচ প্রতি বছর ঈদের আগে শ্রমিকদের ন্যায্য বোনাস থেকে বঞ্চিত করতে বিভিন্ন টালবাহানা করে মালিকপক্ষ। সারা বছর প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও ঈদ আসলে বোনাসের জন্য মালিকের নিকট ধর্না দিতে হয়। এরকম পরিস্তিতি প্রতিবছর ঘটলেও সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো তেমন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনা। সরকারের শ্রমমন্ত্রী মালিকদের প্রতি ১২ মার্চের মধ্যে সকল শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা ও উৎসব বোনাস প্রদানের আহবান জানালেও তা শুধুমাত্র ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।
বর্তমান দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জর্জরিত জনগণের জীবন নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি-মূল্যস্ফীতির এই সময়ে বাঁচার মতো মজুরি না পেয়ে অর্ধাহার অনাহার ক্লিষ্ট শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনগণের জীবন চলাই দায় হয়ে পড়েছে। প্রতিটি সরকারের আমলে শ্রমিক ও তার পরিবার ঈদ উদযাপনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
বক্তারা ২৫ রমজানের মধ্যে সকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ স্ববেতনে ছুটিসহ উৎসব ভাতা প্রদানে সরকার, মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহনের জন্য উদাত্ত আহবান জানান।

