রাতের আঁধারে ভূমি দস্যুদের মাটি কাটার হিড়িক
ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় পবিত্র মাহে রমজানেও থামছে না অবৈধ মাটি কাটার দৌরাত্ম্য। অভিযোগ উঠেছে, ইফতারের পর যখন মুসল্লিরা তারাবিহ নামাজে ব্যস্ত থাকেন, ঠিক সেই সময় রাতের আঁধারে শুরু হয় ভূমি দস্যুদের মাটি কাটার মহোৎসব। যেন দেখার কেউ নেই।
উপজেলার ৮নং রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বড় বিলার উত্তরপাড় এলাকায় প্রায় ২০ একর আবাদি জমি থেকে নিয়মিত অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রথমে ৪–৫ ফুট মাটি কাটার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমির মালিকদের দিয়ে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। কিন্তু বাস্তবে রাত গভীর হলে, বিশেষ করে রাত ১২টার পর শুরু হয় বেপরোয়া মাটি কাটা।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী আবুল কালামের ছেলে জুলহাস মিয়া এই অবৈধ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মোড়লপাড়া জামে মসজিদ থেকে মাত্র প্রায় ২০০ ফুট দূরে বেকু দিয়ে দেদারছে মাটি কাটা হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, কাটা মাটি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার মুমিনপুর এলাকায় বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। মাটি কাটার কাজে অন্তত ৩টি বেকু ও একাধিক ১০ চাকার ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, রাতভর বেকু ও ট্রাকের বিকট শব্দে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এতে মুসল্লিরা শান্তভাবে তারাবিহ নামাজ আদায় করতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা দৈনিক কালবেলা প্রএিকার প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এভাবে মাটি কাটা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এতে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে ভূমি দস্যু চক্র। আবার কেউ কেউ বলছে আমাদের চোখের আড়ালে মাসুয়ারা দিচ্ছে প্রশাসনকে।
এলাকাবাসী দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

