Thursday, April 16, 2026
Latest:
অন্যান্যজাতীয়শিক্ষা ও সংস্কৃতিসাহিত্য ও দর্শন

ময়মনসিংহে কবি আব্দুল হাই মাশরেকীর ১১৭ তম জন্মোৎসব উদযাপন উপলক্ষে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জে মাটি ও মানুষের কবি আব্দুল হাই মাশরেকীর ১১৭ তম জন্মোৎসব উদযাপন উপলক্ষে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে বুধবার, ১ এপ্রিল বিকাল ৩ টায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সন্মেলন কক্ষে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত স্মরণ সভায়, পাঞ্জেরী সাংস্কৃতিক সংসদ এর সভাপতি, এ্যাডভোকেট আজিজুল হাই সোহাগ এর সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য কবি সোহরাব পাশা, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আতিকুর রাজ্জাক ভূইয়া হিরা, কবি আলম মাহবুব, ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের উপাধক্ষ্য মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান,
কবি পুত্র নোমান, পাঞ্জেরী সাহিত্য সংস্কৃতির সাধারণ সম্পাদক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, কবি বারী সুমন, সাংবাদিক, আসাদুল্লাহ হাদিস, এস এইস কাইয়ুম, , আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ।

এ সময় প্রধান অতিথিসহ বিশেষ অতিথিগন কবির রেখে যাওয়া নানা সৃষ্টি কর্ম, গান,কবিতা, নানা কাব্যগ্রন্হ তুলে ধরার মাধ্যমে তিরিশ ও চল্লিশ দশকে সাহিত্য জগতে সাড়া জাগানো কবিকে স্মরণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

কবি ও সাংবাদিক ফয়সাল এর সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এর মাধ্যমে শুরু হওয়া প্রায় ২ ঘন্টা ব্যাপী চলমান উক্ত স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন  স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এ সভায় কবির নানা সৃষ্টি কর্মগুলো আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে একটি লাইব্রেরী গড়ে তুলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের কাছে দাবি তুলে ধরেন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে একটি লাইব্রেরী করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন অতিথিগণ।

প্রসঙ্গত, ত্রিশ ও চল্লিশ দশকের সাড়া জাগানো আলোচিত এ লোকসাহিত্যক কবি, ১৯০৯ সালে ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাঁকনহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় যার প্রথম গ্রন্থ “চোর” প্রকাশিত হয়।

শিক্ষা জীবনে তিনি ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়ে পরবর্তীতে কলকাতা পাড়ি জমান। সেখানে থাকাকালে কিছুদিন এইচএমভি প্রতিষ্ঠানে তিনি চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন। পরে ১৯৪৬ সালে কলকাতায় হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা শুরু হলে তিনি পূর্ব বাংলা চলে আসেন। এখানে এসে শিক্ষকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সময়,জুট রেগুলেশন,দৈনিক বাংলা পত্রিকার সহ-সম্পাদক সহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের ম্যাগাজিন ‘ কৃষি কথার ‘ সম্পাদক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সাড়া জাগানো লোকসাহিত্য এ কবির লেখায়, গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষদের জীবনগাঁথায় ফুটে উঠেছে। তার লেখা অসংখ্য পালাগান, দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও গনসংগীতের মধ্যে উলেখ্যযোগ্য হল,জরিনা সুন্দরী, আল্লা মেঘ দে ছায়া দে,পানি দে, ফান্দে পরিয়া বগা কান্দে রে, মাঝি বাইয়া যাওরে উলেখ্যযোগ্য।গ্রন্থ সমূহের মধ্যে রয়েছে, রাখাল বন্ধু,( পালাগান), কিছু রেখে যেতে চাই( কাব্য),দুখু মিয়ার জারি (জারি গান),মানুষ ও লাশ (গল্প) স্বদেশের প্রতি হযরত মোহাম্মদ (কাব্য) ইত্যাদি।

প্রখ্যাত,লোক সাহিত্যক এ কবি, ১৯৮৮সালের ৪ ডিসেম্বর সে তাঁর নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন।