অন্যান্যকৃষি ও শিল্পজাতীয়

ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলায় ধানক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমণে কৃষক দিশেহারা

বিল্লাল হোসাইনঃ ময়মনসিংহের নান্দাইলে,ফুলপুর হালুয়াঘাট ঈশ্বরগঞ্জ গৌরীপুর সহ বিভিন্ন থানায় ব্যাপক বোরোধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরোনের ফসলে দেখা দিয়েছে ইঁদুর ও পোকার আক্রমণ। ধান রক্ষায় কৃষক মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইঁদুরের দল কৃষকদের স্বপ্নের বোরো ধান গাছ কেটে সাবাড় করছে। এতে দিশেহারা কৃষক। এ অবস্থায় ইঁদুর দমনে আক্রান্ত জমিতে বিভিন্ন রাসায়নিক কীটনাশক কৃষকদের তৈরি বাঁশের ফাঁদ প্রয়োগ করেও প্রতিরোধ মিলছে না।

কৃষকরা বাধ্য হয়েই সনাতন পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। কেউ জমিতে ব্যবহার করছেন কলাগাছের খোসা, কেউ জমিতে টানিয়েছেন পলিথিন,এছাড়াও বিষটোপ: এই বিষটোপ ইঁদুর একবার খেলেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। এরূপ সর্বাধিক পরিচিত বিষটোপ হচ্ছে গমে মিশ্রিত জিংক ফসফাইড ২% ব্যবহার। এটি ব্যবহারের কৌশল হলো, প্রথমে কয়েকদিন জিংক ফসফাইড ছাড়া শুধু গম টোপ সাজিয়ে ইঁদুরের অভ্যাস করানোর পরে হঠাৎ একদিন জিংক ফসফাইড মিশ্রিত গমের টুপ ব্যবহার করতে হয়।

এক্ষেত্রে সমস্যা হলো, যদি মৃত ইঁদুরগুলো জমি থেকে সরিয়ে ফেলা না হয় তাহলে বিষটোপে সতর্ক হয়ে যায়। বিষটোপে সতর্কতা হলো—বিষটোপ খেয়ে মৃত ইঁদুর মরে পড়ে আছেগ, এটা দেখে জীবিত ইঁদুরের ঐ বিষটোপের প্রতি খাওয়ার অনিহা প্রকাশ করে।
বিষ গ্যাসবড়ি ব্যবহার করা: ইঁদুরের গর্তে বিষাক্ত অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড বড়ি দিয়ে গর্তের মুখ ভালো করে বন্ধ করে দিলে ইঁদুর মারা যায়। ধানক্ষেতে ইঁদুর দমনে এটি বেশ কার্যকরী। এই জন্য নতুন সচল গর্তে গ্যাসবড়ি দিয়ে আশপাশের সকল গর্তের/নালার মুখ মাটি দিয়ে শক্ত করে বন্ধ করে দিতে হয়। সঠিক সময়ে, সঠিক নিয়ম মেনে চাষাবাদ করলে সেরা ফসল পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

ইঁদুরের কারণে বাংলাদেশে ধান ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা প্রতি বছর প্রায় ২,৯০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ (কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী)। ধান কাটার পূর্ব মুহূর্তে অর্থাৎ মাঠ পর্যায়ে ইঁদুর সাধারণত ৫-১৭% ফসল নষ্ট করে থাকে।
ইঁদুরের আক্রমণের ফলে ধানের ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নিচে দেওয়া হলো:
মোট ক্ষতির পরিমাণ: প্রতি বছর প্রায় ২৯০০ কোটি টাকার ফসল নষ্ট করে।
জমিতে ক্ষতির হার: ধান কাটার আগে মাঠে ইঁদুর ৫ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ফসলের ক্ষতি করে।
কৃষক পর্যায়ে ক্ষতি: গড়ে প্রতি কৃষক পরিবারে বছরে প্রায় ২০০ কেজি ধান ইঁদুরের কারণে নষ্ট হয়।
গোলাজাত শস্যের ক্ষতি: একটি ইঁদুর বছরে প্রায় ৫০ কেজি গোলাজাত শস্য নষ্ট করতে পারে।
ক্ষতির প্রকৃতি:

ইঁদুর শুধু ধান খেয়েই ক্ষতি করে না, বরং এটি যা খায় তার চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি ফসল নষ্ট করে। এরা ধানের গাছের গোড়া কেটে দেয়, যা দূর থেকে পোকার আক্রমণের মতো মনে হতে পারে। এছাড়া আমন ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমে ইঁদুরের আক্রমণে মাঠের পর মাঠ ধান নষ্ট হয়ে যায়।

কৃষি তথ্য সার্ভিসে জানতে চাই ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন থানায় ইঁদুরে কি পরিমানের ক্ষতি করেছে ময়মনসিংহ জেলায় ইঁদুরের কারণে ফসলের ক্ষতির সুনির্দিষ্ট থানাভিত্তিক পরিসংখ্যান বা সাম্প্রতিক তথ্য কৃষি তথ্য সার্ভিসের চলতি প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণত ময়মনসিংহে আমন ও বোরো মৌসুমে ইঁদুরের উপদ্রব বেশি থাকে।

কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহে ইঁদুরের ক্ষতির একটি সাধারণ চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
ফসলের ক্ষতির পরিমাণঃ ইঁদুর সাধারণত মাঠের ফসলের ৫-৭ শতাংশ এবং গুদামজাত শস্যের ৩-৫ শতাংশ ক্ষতি করে।
আক্রান্ত ফসল: ধান, গম, গোল আলু, নারিকেল এবং শাকসবজির চারা ইঁদুর বেশি নষ্ট করে।
ধানের ক্ষতি (আমন ও বোরো): ফসল কাটার পূর্ব মুহূর্তে ইঁদুর ব্যাপক ক্ষতি করে, যা প্রায় ৫-১৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
ক্ষতির ধরন: ইঁদুর যা খায়, তার চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি ফসল নষ্ট করে। ময়মনসিংহের বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং নদীর তীরবর্তী থানাগুলোতে (যেমন: সদর, ঈশ্বরগঞ্জ, গৌরীপুর) ইঁদুরের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। ইঁদুর দমনে যে সকল পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে।

মাঠের সেচনালা পরিষ্কার রাখা। বিশেষ অবলম্বন কঞ্চি বা বাশের তৈরি স্থানীয় ফাঁদ ব্যবহার করা। বাঁশ বা কাঠের ছর্তাকল ও কেচিকল ব্যবহার করে ইঁদুর ধরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী, বিষটোপ ব্যবহার করা মাটির ছর্তাকল ব্যবহার করলে কৃষক গরু ছাগল পশু প্রাণী ছর্তাকলে আক্রান্ত হয়ে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ও রয়েছে। উৎপাদিত ফসল রক্ষা কৃষি কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আরো তৎপর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।